আমার পরিচয় আমি বাংলাদেশী বাঙালি : জামাল আহমেদ খান

গত কয়েকদিনের কমিউনিটির সিলেটী, নন সিলেটী বিদ্বেষে আমাকে একজন মন খারাপ করে ফোন দিয়ে বললও আমরা যারা বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে লন্ডনে এসেছিলাম তারা বাংলাদেশি না হয়ে সিলেটী নন সিলেটী বিভাজনে বিভক্ত কেন?

হাসলাম আর বললাম, আমরা আসলে বহু বিভাজনে বিভক্ত। শুধু সিলেটী, নন সিলেটী নয়। আসলে বাঙ্গালিরা কেউ কাউকে দেখতে পারি না।

সিলেটীরাই কি ঐক্যবদ্ধ ? না।প্রথমে নিজেদেরকে আলাদা করতেগিয়ে আমরা সিলেটী বলে পরিচয় দেই । সিলেট শেষ হলে উপজেলা বিভাজনে বিভক্ত করি । সব উপজেলা নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রমান করতে আরেক উপজেলাকে ছোট করছি।

সার্বজনীন কোন প্লাটফর্মে কমিটি করতে গিয়ে নিজের উপজেলার মানুষকে যত পারি প্রমোট করি। উপজেলা পলিটিক্স শেষ করে গ্রুপইং এ যাবো। গ্রুপিং মানে অমুককে ভালো লাগে না তমুকের পিছনে লাগি।তখন আবার হাজার ভাগে বিভক্ত।

সিলেটী হিসেবে কিসের বড়াই? আমরা তো ঐক্যবদ্ধ না। বরং যারা এসব বিষয় নিয়ে আসে তারা নিম্নশ্রেণীর মানুষ । হিংসা,বিদ্বেষ ,আহঙ্কারে পরিপূর্ণ অমানুষ।

অনেকে আবার সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য সিলেটী নন সিলেটী বিভাজন নিয়ে হাজির হয় কদিন পর পর।অবশ্য এদেরকে সবাই চেনে।অসময় নাচানাচি করে বুঝাতে চায় সিলেটী সমাজের প্রতিনিধি ওনারা।এসব মানুষের ইতিহাস লিখে কলম নষ্ট করতে চাই না।এদের ইতিহাস কম বেশি সকলেই জানি।জীবনে কোন কাজ তো করেনি শুধু পূর্বপুরুষ আর বাবা চাচার নাম ভাঙ্গিয়ে ভুলভাল লেখা আর অন্যের (!) ঘাড়ে চড়ে খাওয়া।

আমরা আঞ্চলিকতায় কথা বলি কারন এটা আমাদের পরিচয় আমাদের রুট। আমি তো শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারি না। কিন্তু তাঁর মানে এই না সবাই আমার ভাষায় কথা বলতে হবে।সেটি হবে অযৌক্তিক।আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফ আরবি থেকে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। সিলেটী দেখে সিলেটী ভাষায় অনুবাদ দাবিও করতে পারি না।

তাছাড়া সিলেট সিলেট করে লন্ডনে চিৎকার করলেও বাংলাদেশে প্রবাসী সিলেটীদের যে সন্মান এবার করোনা কালে দেখিয়েছে তারপর বড়াই করতে ভাবতে হবে হাজারবার!!

লন্ডনে সিলেটের চাইতে আর কোন জেলায় এত সাহায্য পাঠানো এবং ফান্ড রেইজিং ও হয় না! কিন্তু বাংলাদেশের দোকান মার্কেটে প্রবাসীদের প্রবেশ নিষেধ লেখা নিশ্চই চোখে পড়েছে সবার!

আমরা গর্বিত আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের জন্য লন্ডনে অনেককিছু করেছেন।স্বাধীনতার কালের অবদান থেকে শুরু করে ধর্মীয়, শিল্প, সাহিত্য সংস্কৃতি সকল ক্ষেত্রে সিলেটীদের অবদান কোন বাঙালি অস্বীকার করতে পারে না।

রেসিজম এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের জন্য বাসযোগ্য আবাসভূমি করে গেছেন এই লন্ডনকে আর তাইতো আমরা আজো টিকে আছি বুক ফুলিয়ে। কিন্তু আজকে সিলেটী নন সিলেটী বিতর্ক এনে নিজেরাই কি রেসিজম করছি না!

আলতাব আলী বেঁচে থাকলে কত দুঃখ পেতেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে বর্ণবিদ্বেষীদের হামলায় নিহত হয়েছিলন আমাদের আলতাব আলী। তার মৃত্যুর পর লন্ডনের বাঙালি সম্প্রদায় বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদে নেমেছিল।তখন আমরা ছিলাম বাঙালি।আজকে আমরা আমাদের সহোদর বাঙ্গালিকেই টিপ্পনী করি।তবুও ভালো আমাদের অতি সিলেটীরা সিলেটী ক্লাব অথবা সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেনি।

জামাল আহমেদ খান , কমিউনিটি একটিভিস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!