সুনামগঞ্জের আলোচিত সাংসদ রতনকে নিয়ে ফেসবুকে পোষ্টে সাংবাদিক গ্রেপ্তার,প্রেসক্লাবের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মাহতাব উদ্দিন তালুকদার নামে এক সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনকে রতনকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সোমবার গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া মাহতাব উদ্দিন তালুকদার এসএ টিভির জেলা প্রতিনিধি ও সুনামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথা পত্রিকার সম্পাদক। এর আগে সোমবার রাতে ঐ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জেলার ধর্মপাশা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তরবীর গ্রামের বাসিন্দা বেনোয়ার হোসেন খান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

রাত ১২টায় মামলা হওয়ার পর রাত দুইটার দিকে সুনামগঞ্জ শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মাহতাব উদ্দিন তার ফেসবুকে সংসদ সদস্যকে নিয়ে আপত্তিকর পোষ্ট দিয়েছেন। এই মিথ্যাচারের ফলে সংসদ সদস্যের মর্যাদাহানি ঘটেছে।

তবে মাহতাব উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি সাংসদকে নিয়ে ফেসবুকে কোনো পোষ্ট দেননি। সোমবার সন্ধ্যায় তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছিল। প্রায় ছয়ঘণ্টা পরে সেটি তিনি ফিরে পান। এটি আবার তিনি নিজেই ফেসবুকে জানিয়েছেন। বিষয়টি তিনি পুলিশকেও বলেছেন।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার মাহতাব উদ্দিনকে আদালতে হাজির কারলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সাংবাদিক মাহতাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ
প্রেসক্লাব।

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মহিম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার সন্ধায় এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মাহতাব উদ্দিন সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য নয়। তারপরও তাকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটিতে আমরা উদ্বিগ্ন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্যকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা পোষ্ট দিয়েছেন। এ ঘটনায় ধর্মপাশা থানায় মামলা হয় সোমবার রাত ১২টায়। এরপর রাত দুইটায় সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু মাহতাব উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি সংসদ সদস্যকে নিয়ে কোনো পোষ্ট দেননি। সোমবার রাতে তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছিল। প্রায় ছয়ঘণ্টা পর তিনি আরেকজনের সহায়তায় সেটি উদ্ধার করেন। পরে তিনি নিজেই তার ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

যেহেতু মাহতাব উদ্দিন দাবি করছেন তিনি এটি করেননি, তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছিল, তাহলে বিষয়টির তদন্ত হতে পারত। সামাজিকভাবেও নিষ্পত্তির সুযোগ ছিল। আমরা বিষয়টির সঠিক তদন্ত চাই। একজন সংসদ সদস্যের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য ইচ্ছাকৃত কোনো উদ্যোগ হলে সেটিও বিচার চাই।

একই সঙ্গে মাহতাব উদ্দিন যাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!