শহীদ বিপ্লবী বাঘা যতীনের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নির্মূল কমিটির আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার ও স্মরণসভা

নিউজ ডেস্ক : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ শহীদ বিপ্লবী বাঘা যতীনের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘উপমহাদেশের বৃটিশবিরোধী সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে বক্তব্য প্রদান করেন শহীদ বাঘা যতীনের পৌত্র বিশিষ্ট ফরাসী গবেষক ড. পৃথ্বীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, শহীদ বাঘা যতীনের পৌত্র ইন্দুজ্যোতি মুখোপাধ্যায় (পশ্চিমবঙ্গ), ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন-এর সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হাসান খান, ভারতের ‘ইন্সটিটিউট অব সোশাল এ্যাণ্ড কালচারাল হিস্ট্রি’র মহাসচিব গবেষক অরিন্দম মুখোপাধ্যায়, বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাস্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সমাজকর্মী পঙ্কজ চক্রবর্তী, নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সভাপতি সুইডেনের মানবাধিকার নেতা তরুণ কান্তি চৌধুরী, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর হিন্দি বিভাগীয় সম্পাদক সমাজকর্মী তাপস দাস ও নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্মী কাজী মুকুল।

সভায় সূচনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই-ফেরদৌসী।

বৃটিশ ভারতে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন) সহ অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের মহান আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে ওয়েবিনারের সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘ভারতবর্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যারা লিখেছেন তাদের অধিকাংশ সচেতন বা অচেতনভাবে ঔপনিবেশিক মানসিকতার আক্রান্ত ছিলেন। এসব ইতিহাস গ্রন্থে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অহিংস অসহযোগ নরমপন্থী আন্দোলনের প্রতি যতটা পক্ষপাত আমরা লক্ষ্য করিÑ এর বিপরীতে অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের বৃটিশ শাসক ও লেখকদের মতো সন্ত্রাসী বিবেচনা করা হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের অধ্যায়টি মূলধারার ইতিহাসে গুরুত্ব লাভ করে নি। স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, অসহযোগ আন্দোলনও করেছে। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামের পথই বেছে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তরুণ বাঙালি মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুদিরাম, বাঘা যতীন, আশফাকউল্লাহ, সূর্য সেন, ভগৎ সিং ও প্রীতিলতার মতো অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের আত্মত্যাগে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশমাতৃকাকে দখলদারমুক্ত করার জন্য অকাতরে জীবনদান করেছেন।

‘পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের এদেশীয় তল্পিবাহক জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সমচরিত্রের দলগুলো বিভিন্ন সময়ে অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের সন্ত্রাসী বলেছে তাদের ভাস্কর্য ভেঙেছে, প্রতিষ্ঠানের নামকরণের বিরোধিতা করেছে। একইভাবে ভারতেও আমরা অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের উপেক্ষা ও অবমূল্যায়ন দেখেছি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কালে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের পাশাপাশি আমরা শহীদ বিপ্লবী বাঘা যতীন সহ অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের মহান আত্মদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে সকল মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায় থেকে স্মাতকোত্তর পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানাচ্ছি। বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত রূপ ছিল ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং অবিস্মরণীয় বিজয়।’

শহীদ বাঘা যতীনের পৌত্র বিশিষ্ট ফরাসী গবেষক ড. পৃথ্বীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘কিংবদন্তী বাঘা যতীন যে রক্তে মাংসে গড়া ইতিহাসের মহানায়ক ছিলেন সেটি জানিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন আমাদের বড়দি, যতীন্দ্রনাথের দিদি বিনোদবালা দেবী। যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পুলিশের খাতায় চিহ্নিত ছিলেন মারাত্মক নৈরাজ্যবাদী আখ্যাতে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তিনি রেখে গিয়েছিলেন স্থান, কাল পাত্রের যথাযথ পরিচয়। তার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে ১৯৫৫ সাল থেকে ধাপে ধাপে আমি অগ্রসর হয়েছি। শাহরিয়ার ভাইয়ের কাছে আজ গচ্ছিত রাখছি যে কাঠামোÑ তার ভিত্তিতে আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গ্রন্থে সংগৃহীত তথ্য নিয়ে যতীন্দ্রনাথের প্রামাণ্য জীবনী প্রকাশ করা আবশ্যক। সেজন্য যোগ্যতা অনুযায়ী নির্বাচিত সদস্যমণ্ডলী নিয়ে দায়িত্বসচেতন একটি কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। বিভিন্ন ভাষায় তার অনুবাদ প্রচার করে যতীন্দ্রনাথকে অধিষ্ঠিত করতে হবে সমকালীন রাজনৈতিক ও কর্মবীরের ন্যায্য ভূমিকায়।’

শহীদ বাঘা যতীনের পৌত্র ইন্দুজ্যোতি মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘১৯১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে বৃটিশরাজের বিশাল বাহিনীর সঙ্গে বাঘা যতীন এবং তাঁর চার সহযোদ্ধার যে সম্মুখসমর হয় তাতে অসীম পরাক্রম দেখালেও সঙ্গের গুলি ফুরিয়ে যাওয়ায় তাঁরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হন। চিত্তপ্রিয় রায় চৌধুরী যুদ্ধে নিহত হন, নীরেন দাশগুপ্ত এবং মনোরঞ্জন সেনগুপ্তর ফাঁসি হয়, জ্যোতীশ পালের হয় দ্বীপান্তর। বাঘা যতীন ১০ই সেপ্টেম্বর ভোরে বালেশ্বর হাসপাতালে রক্তশূন্য হয়ে মারা যান। যতীন্দ্রনাথের একদা সহকর্মী শ্রদ্ধেয় এম.এন. রায় তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেনÑ শুধু বিপ্লবী নেতা নন, তিনি ছিলেন মানুষ হিসেবেও মহান। আসলে ভাল মানুষ না হলে যথার্থ বিপ্লবী হওয়া যায় না। দেশকে ভালবাসা মানে দেশবাসীকে ভালবাসা। দেশ তো নিছক মাটি নয়, দেশ হচ্ছে দেশবাসীÑ তাদের ভাল না বাসলে তাদের মঙ্গলের জন্য আত্মত্যাগ করা যায় না। ঝোঁকের মাথায় আত্মবলিদান নয়Ñ আজীবন সংগ্রামী বিপ্লবী হতে গেলে ভাল মানুষ হওয়া আবশ্যক। সেই অর্থে সমস্ত প্রকৃত বিপ্লবীই ভাল মানুষ। যতীন্দ্রনাথ আপামর দেশবাসীর প্রতি তাঁর জীবনব্যাপী ভালবাসার প্রমাণ দিয়ে নিজেকে প্রকৃত বিপ্লবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাঙালিকে বলা হয় ইতিহাস বিস্মৃত জাতিÑ তা সঠিক কিনা জানি না। এঁরা অন্তত: ননÑ তার প্রমাণ এঁরা নিয়ত দিয়ে যাচ্ছেন।’

ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন, ‘বাঙালির ঐতিহ্য হল অসঙ্গত বঞ্চনা আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে এগিয়ে আসা। এটা সে তার বাঙালি হিসেবে অস্তিত্বের একেবারে প্রথম যুগ থেকেই করে আসছে। রাজার বিরুদ্ধে হোক, ধর্মীয় প্রভুত্বের বিরুদ্ধে হোক, বাঙালি বসে থাকেনি, অস্ত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র, সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে মানবিক উদারতাকে তুলে ধরেছে। ঔপনিবেশিক সময়ে একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বাঙাল বিপ্লবীরা, পরে পাকিস্তানি অপশাসনের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙালি মুক্তিবাহিনী অসীম বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটিয়েছে। বাঙালি কোনও অন্যায়কে মেনে নেবে না, অন্ধত্বকেও না।’

মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন-এর সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘বাঘা যতীন দেশ স্বাধীনের জন্য সশস্ত্র বিপ্লবের যে পথ দেখিয়েছিলেন পরবর্তীকালে মাস্টারদাও তা অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু নেতাজি সুবাস চন্দ্র বসুও মনে করতেন যুদ্ধ ছাড়া ভারতের স্বাধীনতা সম্ভব নয়। আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবও এই তিন বিপ্লবী নেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। প্রথমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনের পথ বন্ধ হলে, তিনিও অস্ত্রের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনের পন্থা অনুসরণ করেছিলেন। সম্প্রতি ধর্ম ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তরা কুষ্টিয়ায় বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার চেষ্টায় ছিল। গোটা জাতির ধিক্কার রইলো তাদের জন্য।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি বলেন, ‘বিপ্লবী বাঘা যতীনের মা শরৎশষী ছিলেন সমাজকর্মী ও কবি। সমাজের কুসংস্কার, পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য বিপ্লবের শিক্ষা তিনি ছোটকালেই বাঘা যতীনকে দিয়েছিলেন। সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। সেসময় মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের অনুপ্রেরণা ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়করা।’

নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হাসান খান বলেন, ‘আজ লড়াকু বাঘা যতীন কে মনে করে এটাই ভাবছি- আমাদের তরুণ, যুবক-যুবতীদের আধুনিক রণকৌশলগুলো রপ্ত করে দুনিয়ার শত্রু- সাম্রাজ্যবাদ, সিআইএর সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে বঙ্গবন্ধু, চিলির আলেন্দে ও বাঘা যতীনের মত ত্যাগ স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

ভারতের ‘ইন্সটিটিউট অব সোশাল এ্যাণ্ড কালচারাল হিস্ট্রি’র মহাসচিব গবেষক অরিন্দম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘১৯৭১-এ স্বাধীন বাংলাদেশের উদ্ভব হলে রাষ্ট্রপিতা শেখ মুজিবর রহমান চেয়েছিলেন কয়াতে ‘বাঘা যতীন মিলিটারী একাডেমি’ গড়তে। মুজিবের অকাল মৃত্যুতে তাঁর সেই ইচ্ছা কার্যকর হয়নি। যতীন্দ্রের জন্মভিটায় আজ একটি মহাবিদ্যালয় হয়েছে- যার নাম কয়া কলেজ। বাকি জমির বেশীর ভাগ আজ খাস হলেও স্থানীয় মানুষদের দখলে। কয়াগ্রাম কিন্তু আজও ভোলেনি যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীনকে। তারা চায় ঐ কলেজের নাম হোক ‘বাঘা যতীন কলেজ’। গ্রামের মূল রাস্তার নামকরণ হোক ‘যতীন্দ্র মুখোপাধ্যায় সরণী’। কয়া শুধু যতীনের জন্মের আঁতুড়ঘর ছিল না, কয়া ছিল তাঁর কর্মের লীলাভূমিও। যতীন্দ্রনাথের যে সাহস, শক্তি, শৌর্য-বীর্য তাঁর জীবনকে অলৌকিক রূপে পরিচালিত করেছিল; তার বীজও অঙ্কুরিত হয়েছিল এ কয়াতেই।’

নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সভাপতি সুইডেনের মানবাধিকার নেতা তরুণ কান্তি চৌধুরী বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘অগ্নিযুগ’ এর সূচনাকালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আলোকে একটি বিদ্রোহের মাধ্যমে ব্রিটিশদের ভারত থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই বিপ্লবের মূল স্থপতি বাঘা যতীন ছাড়া আর কেউ নন। ঐতিহাসিকগণ ইচ্ছাকৃতভাবে বাঘা যতীনকে স্বাধীনতার আন্দোলনে অবদানের জন্য প্রাপ্য সঠিক জায়গাটি দেননি। যদিও এই মহান বিপ্লবী সম্পর্কে নথিভুক্ত ঐতিহাসিক রেকর্ডের অভাব নেই।’

বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাস্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সমাজকর্মী পঙ্কজ চক্রবর্তী বলেন, ‘একটি জাতির একটি নিজস্ব ভাষা, একটি মানচিত্র, একটি স্বাধীন দেশ অত্যাবশ্যকÑ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে বারবার রক্ত দিতে হয়েছে। ১৯ শতকে এই বাংলার সন্তান মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে মণিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, কাজেম আলী মাস্টার, রোহিনি বড়ুয়া, বীরকন্যা প্রীতিলতা, কল্পনা দত্ত সহ অসংখ্য বাঙালি বিপ্লবীর আত্মদানে যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল তারই চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনÑ যা পরবর্তীতে ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ বিজয়, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির আত্মত্যাগের অবিস্মরণীয় ঘটনা যা ইতিহাসে বিরলÑ ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মউৎসর্গের ফলস্বরূপ বাংলাদেশ নামক আমরা একটা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি।’

নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর হিন্দি বিভাগীয় সম্পাদক সমাজকর্মী তাপস দাস বলেন, ‘বাঘা যতীন সহ তরুণ সংগ্রামীদের চিন্তা, সংগ্রামী লড়াইয়ের আদর্শকে কিন্তু বাংলাকে ভাগ করে দমিয়ে দেওয়া যায় নিÑ এর সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে। তবে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় বর্তমান সময়ের যুবকরা এই সংগ্রাম সম্পর্কে অবগত নয়, আরো বিশেষভাবে বললে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মহান বিপ্লবীদের পাঠ্যবইয়ে একটি প্যারাগ্রাফে পরিণত করে রাখা হয়েছেÑ ফলে সংগ্রামের ইতিহাস আজ যুব সমাজের কাছে অজানা রয়ে গেছে।’

স্থানীয়ভাবে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কুমারখালী শাখার উদ্যোগে ও কয়ার বাঘা যতীন থিয়েটারের সহযোগিতায় শহীদ বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্মস্থান কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আজ ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্মূল কমিটির কুষ্টিয়া কুমারখালী শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনসুর মজনুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন কুষ্টিয়ার বোধোদয়-এর সভাপতি এডভোকেট লালিম হক। সভায় আলোচনা করেন কুমারখালী সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফ হোসেন, কুমারখালীর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি সমাজকর্মী মমতাজ বেগম, কয়া কলেজের সভাপতি এডভোকেট নিজামুল হক চুন্নু, কয়া কলেজের অধ্যক্ষ হারুণ অর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁদ আলীসহ সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!