লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জাতীয় শোক দিবস পালিত

মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান: ১৫ আগস্ট ২০২১ জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দের প্রতি বিনম্র ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


পরে পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। হাইকমিশনার প্রধান অতিথিদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন আয়োজিত এক স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পিছনে কমপক্ষে সাতটি চক্রের সম্মিলিত ও সুদীর্ঘ ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমের সভাপতিত্বে স্মারক অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করেছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি কখনই আপস করেননি। আজ যারা নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে তারাই এক সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই রেখে দিতে চেয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে সাফল্যের সাথে যেভাবে এগিয়ে চলেছেন তাতে সব ষড়যন্ত্রই মোকাবিলা করা সম্ভব।

হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, ঘাতক চক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। জাতির পিতার দুই সাহসী এবং সুযোগ্যা কন্যা রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নিভৃতচারী বোন শেখ রেহানা ৭৫ পরবর্তী স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন- একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও প্রগতিশীল সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিরন্তর আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক ভিডিও বার্তা পাঠান- যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি ও বিরোধীদলীয় নেতা স্যার কিয়ার স্টারমা, বিশিষ্ট কলামিস্ট-সাংবাদিক ও মহান একুশের অমর গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার আহবাব আহমেদ ও নির্বাহী মেয়র জন বিগস, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গাউস সুলতান, ক্রয়ডন কাউন্সিলের মেয়র শেরওয়ান চৌধুরী, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সিনিয়র ব্যক্তিত্ব জালাল উদ্দিন ও বিশিষ্ট কমিউনিটি সংগঠক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক।

অনুষ্ঠানে হাই কমিশনার সম্মানিত অতিথি ও মিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে শোক দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত একটি স্মারক পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

স্মারক অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের মিনিস্টার (কনস্যুলার) মো. মঈন খান, সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রশীদ, মিনিস্টার (প্রেস) আশিকুন নবী চৌধুরী, মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) এএফএম জাহিদুল ইসলাম, মিনিস্টার (জনকূটনীতি) সাব্বির বিন শামস, কমার্শিয়াল কাউন্সিলার এসএম জাকারিয়া হক, কাউন্সিলার (পলিটিক্যাল) দেওয়ান মাহমুদুল হক, কাউন্সিলার ও দূতালয় প্রধান স্বদীপ্ত আলম, প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা) এজেডএম শরীফ হোসেন, প্রথম সচিব (পলিটিক্যাল) মাহফুজা সুলতানা, প্রথম সচিব (পলিটিক্যাল) একেএম মনিরুল হক, প্রথম সচিব (পলিটিক্যাল) মৌমিতা জীনাত ও অ্যাটাশে (কনস্যুলার) এইচএম ফয়সাল আহমেদসহ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!