ভারতের কলকাতায় শেষ ইহুদি উপাসনালয় ‘ম্যাগেন ডেভিড সিনাগগ’

দেবার্ঘ্য কুমার চক্রবর্তী : সর্ব ধর্ম সমন্বয়; এর সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ নিয়ে বেঁচে থাকা শহর বোধহয় কলকাতা। যেখানে এক গলি থেকে অন্য গলিতে গেলে বদলে যায় জীবনের গল্প, আড্ডার বিষয়. সেরকমই এক অন্যতম হলো এই কলকাতা শহরের ইহুদি সমাজ। সেই সমাজের অন্যতম সাক্ষী ছিল শহরের অন্যতম এক স্থান, ম্যাগেন ডেভিড সিনাগগ।

ইলিয়াস ডেভিড এজরা, তার পিতা ডেভিড জোসেফ এজরার স্মৃতিতে ১৮৮৪ সালে তৈরী করেন এই সিনাগগটি। ইউরোপীয় নবজাগরণের শিল্প ভাস্কর্যের ছোঁয়ায় সাজানো হয় ওই সমগ্র ভবন টি। এর চূড়ায় আছে একটি অর্ধেক গম্বুজ, যা স্বর্গকে বোঝায়। সামগ্রিক ভাবে কলকাতা শহর উপহার পায় এক অসাধারণ শিল্পভাস্কর্যের নিদর্শন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি আর মুসলমানদের সম্পর্কে টানাপড়েন থাকলেও তার বিন্দুমাত্র ছাপ কোনওদিন কলকাতায় পড়েনি। এখানে সব ক’টি সিনাগগ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন মুসলমানরা। এমনকি, তোরা যে ঘরে রক্ষিত আছে সেখানেও ঢুকতে পারেন এঁরা। প্রার্থনার সময় ইহুদিরা টুপির মতো যে আবরণ দিয়ে মাথা ঢাকেন সেই কিপা নিজেরা তো পড়েনই, যাঁরা সিনাগগগুলি দেখতে আসেন তাঁরা মাথায় রেখেছেন কি না সে দিকেও কড়া নজর থাকে এঁদের। জুয়িশ গার্লস স্কুলেও মুসলিম মেয়েরাই পড়ে এখন।

ইহুদি নিয়মে প্রার্থনা করার জন্য কমপক্ষে দশ জন পুরুষ দরকার, যাকে হিব্রুতে মিনইয়ান বলা হয়। লোকের অভাবে তাই বহু দিন বন্ধ হয়ে গিয়েছে নিয়মিত প্রার্থনা। কিন্তু আজও কেউ কেউ নিয়মিত সিনাগগে আসেন। প্রথামতো শুক্রবার এসে জলে ভাসমান মোম জ্বালিয়ে যান। শনিবার প্রার্থনায় বসেন। এখন এই শহর ওঁদেরই। কলকাতা ছেড়ে কোথাও যেতে চান না এঁরা। যত দিন বেঁচে আছেন এই শহরেই নিজেদের মতো করে ভক্তি আর প্রেম উৎসর্গ করেন ঈশ্বরকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!