জাতির জনকের জন্ম শতবার্ষিকীতে উগ্রবাদীদের চিহ্নিত করার আহবান

লন্ডন প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি ও জাতির জনকের জন্মশত বার্ষিকীতে কয়েকটি উগ্রবাদি সংগঠনের ব্যানারে শানে রিসালত সম্মেলনের নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে এদের ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন আলোচকরা। গতকাল ২১ মার্চ লন্ডন থেকে যুদ্ধাপরাধ বিচারমঞ্চ আয়োজিত ভার্চুয়্যাল আলোচনায় আলোচকবৃন্দ এই আহবান জানান।

আলোচকবৃন্দ বলেন যারা ধর্মের দোহাই তোলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে এরা ১৯৭১সালের স্বাধীনতা বিরোধী এ্ধসঢ়;বং পাকিস্তানীদের দোষর । এই স্বাধীনতা বিরোধী উগ্রবাদি গোষ্ঠি বিভিন্ন সময় ধর্মকে ব্যবহার বাংলাদেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চাইছে। এরা ১৯৭১ সালে আলবদর, রাজাকার ও আলসাম বাহিনী গঠন করে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানীদের সাথে নিয়ে গণহত্যা চালিয়ে ছিল।

পরবর্তিতের এদেরই একটি অংশ আফগান বিপ্লবে অংশ নেন এবং এদের দ্বারাই গড়ে উঠে হেফাজতে ইসলাম। এই হোফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লা বাংলাটিম ও নব্যজেএমবি‘র সদস্যদের সকলেই আফগান ফেরত তালেবান। এদের মদদ দিচ্ছে সাম্প্রদায়িক স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন জামাতে ইসলামী। আজকের হেফাজেতে ইসলাম, শানে রিসালত, ছাত্র অধিকার ও যুবঅধিকার এবং খেলাফত মজলিশের মত সংগঠন গুলো জামাতের নতুন সংস্করণ। এরা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেনা। এরা সব সময়ই সাম্প্রদায়িক। এই গোষ্টী প্রশ্ম তোলছে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্টানে সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা আসলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রি নরেন্দ্র মোদিকে তারা প্রতিহত করবে।

জামাতের ইন্দনে উগ্রবাদীরা এমনটি করছে। শুধু তাই নয় দেশে বিদেশে এই স্বাধীনতা বিরোধীরা গড়ে তুলেছে অসংখ্য সংগঠন।

যদিও এই সংগঠনটি সর্বদলীয় ওলামা পরিষদ হিসেবে পরিচিত এর মাধ্যমে চালানো হয় বর্তমান সরকার এবং ভারত বিরোধী অপপ্রচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের জয়গান।

গতকাল লন্ডন সময় বিকেল চার ঘটিকায় এলএনটুয়েন্টি ফোরে রূমী হকের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় অংশ নেন যুদ্ধাপরাধার বিচার মঞ্চের চেয়ারপার্সন মতিয়ার চৌধুরী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য আনসার আহমেদ উল্লাাহ,

অতিথি হিসেবে যোগদেন বাংলাদেশ থেকে শহীদ সন্তান ডঃ নুজহাত চৌধুরী , যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যরিস্টার তুরিন আফরোজ, লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের মিনিষ্টার প্রেস আশিকুননবী চৌধুরী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি সুইডেন চাপ্টারের সেক্রেটারী তরুন কান্তি চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অপু চৌধুরী, যুদ্ধাপরাধ বিচার মঞ্চের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট খালেদুর রহমান শাকিল।

আলোচকবৃন্দ বলেন পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর এর নির্দেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তিতে দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে।

আলোচকবৃন্দ উগ্রবাদী হেফাজতে ইসলামের সকল কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানান। সেই সাথে বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের অমিমাংসিত সসম্যা বিশেষ করে বাংলাদেশে আটকে থাকা ত্রিশ লক্ষ পাকিস্তানীকে ফিরিয়ে নেয়া, বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ফেরত, ১৯৫জন পাকিস্তানীকে সেনা সেনা কর্মকর্তাকে বিচারের জন্যে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর, একাত্তরের গণহত্যার জন্যে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান।

বক্তরা সুনামগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ী ঘরে হামলা লুটপাট ও নারীদের নির্যাতন করার জন্যে হেফাজতে ইসলামকে দায়ী করে বলেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিয়ষক সম্পাদক মৌলানা শোয়াইব আহমদ শানে রিসালতের নামে তার নিজ এলাকা

দিরাইয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করেন। সম্মেলনের পর পরই জাতির জনকের জন্মদিনে পরিকল্পিত ভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। যার প্রমাণ তার ফেইসবুক আইডি। আলোচকবৃন্দ হেফাজতের সকল কার্যক্রম বন্ধ ও শাল্লার নেয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!