বাঙালি হিন্দুদের শারদীয় দূর্গা পূজা শুরু হয় যেভাবে

নিউজ ডেস্ক : বাঙালি হিন্দুদের শারদীয় দূর্গা পূজা কবে, কখন, কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল তা সঠিক ভাবে জানা মুশকিল। তবে ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতায় মাতৃতান্ত্রিক দ্রাবিড় জাতির মধ্যে মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন ছিল। সিন্ধু সভ্যতায় ( হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতা) দেবীমাতা, ত্রিমস্তক দেবতা, পশুপতি শিবের পূজার প্রচলন ছিল।

বর্তমানে দূর্গা পূজা মূলত বাংলাদেশ,নেপাল এবং ভারতের পশ্চিম বাংলার বাংলা ভাষাভাষী হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্কৃত ভাষায় রচিত রামায়ণে দুর্গা পূজার কোন উল্লেখ ছিল না। কিন্তু রামায়ণ যখন বাংলা ভাষায় অনুদিত হলো মূলত তখন থেকেই দেবী হিসেবে দুর্গার মহাত্ম বাংলা ভাষী হিন্দুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বিবিসিকে এক রিপোর্টে বলেন “ছয়শো বছর আগে কৃত্তিবাস ওঝা যখন রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেন, তখন লোকায়ত গল্পে যেখানে দুর্গার কাহিনী প্রচলিত ছিল, সেটি অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। এরপর যেহেতু বাঙ্গালী বাংলা ভাষায় রামায়ণ পেল, এবং সেখানে দেখল দুর্গার সাহায্যে রামচন্দ্র রাবণকে বধ করতে পারে, তাহলে সে আমারো প্রাত্যহিক প্রয়োজনে কাজে আসবে।”

এই ভাবেই দুর্গা প্রধানতম দেবী হিসেবে আবির্ভূত হন বাঙ্গালী হিন্দুদের কাছে। কিন্তু এরপরও প্রধান ধর্মীয় উৎসব হয়ে উঠতে দুর্গা পূজার সময় লেগেছে আরো কয়েক শো বছর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজীন হুদা বিবিসিকে এক রিপোর্টে বলছেন, মূলত ব্রিটিশ শাসনের সময় হিন্দু এলিট ও জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দুর্গা পূজা।

“হিন্দুদের মধ্যে যে শ্রেনীভাগ ছিল, সেটা নিয়ে তখন অনেক সামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যেকারণে তখন হিন্দু ধর্মকে ‘মডিফাই’ করার দরকার হয়েছিল।

তখন বাংলার এলিট শ্রেণী দেখলো যে এমন একটা শক্তির দরকার, যাকে সবাই মেনে নেবে। সেসময় দুর্গার পূজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর একটা কারণ ছিল, দূর্গার মাতৃরূপ।”

অধ্যাপক হুদা বলছেন, দুর্গার পূজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠার আরেকটি কারণ বাংলায় তখনো মার্তৃতান্ত্রিক পরিবারের প্রাধান্য ছিল।

ফলে দ্রুত বাঙ্গালী হিন্দুরা সেটি মেনে নেয়, এবং ক্রমে অন্য দেব দেবীর পূজাকে ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে দুর্গার পূজা।

তিনি আরো বলেছেন, আর স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত থাকার কারণেই স্থানীয় জমিদার এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রজাকে খুশী করার একটা চেষ্টা ছিল, যেকারণে দূর্গা পূজায় আড়ম্বরের মাত্রা বেড়েছিল।

এছাড়া দুর্গা পূজার সময় হিসেবে শরৎ কালকে বেছে নেবার কারণ ছিল, যেহেতু এটা কিছুটা অঞ্চলভিত্তিক পূজা ছিল, ঐ সময়টাতে বৃষ্টি তেমন হয় না।

তাছাড়া এটা নবান্নের সময়, এ সময় ধান ও অন্যান্য শস্য উঠত, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকত। ফলে মানুষ আনন্দ করতে পারতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!