জার্মানিতে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালিত

মাইন্স, জার্মানি : যথাযথ মর্যাদায় এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে শনিবার বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জার্মানির উদ্যোগে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সপরিবারে নিহত শহীদদের স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, “১৫ আগস্ট শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি মুজিব কিংবা শুধুমাত্র জাতির পিতার পরিবারকে নয়, বরং গোটা বাংলাদেশকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালেও বাংলাদেশের শত্রুরা মুজিবের নীতি, আদর্শ ও স্বপ্নকে হত্যা করতে পারেনি, আগামীতেও কোনদিন সেটা পারবে না। আর সেজন্য বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর স্বপ্ন, নীতি ও আদর্শকে লালন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।“ অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, “যদিও আমরা প্রবাসে থাকি কিন্তু আমাদের আত্মা বাংলাদেশ, বাংলাদেশকে ঘিরেই আমাদের সবকিছু। আর বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানেই আমাদের আত্মা এবং আমাদের অস্তিত্ব। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতেই শুধুমাত্র বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতি সম্ভব। বিগত দশ বছরে বাংলাদেশ যে উন্নতি করেছে আগামীতেও সেটা যেন আব্যাহত থাকে সেই আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তাঁরা।“

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার প্রদত্ত বাংলা বাণী পাঠ করেন জার্মান আওয়ামী লীগের নেতা এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জার্মানির সহ-সভাপতি ইমরান ভুঁইয়া। প্রধানমন্ত্রীর ইংরেজি বাণী পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান খসরু। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন এর সভাপতি ডঃ এ কে আব্দুল মোমেন এমপি’র প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জার্মানির প্রধান উপদেষ্টা মাহবুবুল হক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ মোমেন তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, “বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জার্মানি জাতীয় শোক দিবসে শোক সভার আয়োজন করছে, যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি রইল আমার অফুরন্ত ভালবাসা ও নিরন্তর শুভ কামনা।” তিনি আরও বলেন, “ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি, বরং তা বাঙালি জাতির হৃদয়ের গভীরে গ্রোথিত রয়েছে। মানবতা, মানুষের ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাসহ নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা – প্রতিটা বিষয় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে প্রতিফলিত হয়েছে। জাতির পিতার আদর্শ ও অর্জনসমূহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে তুলে ধরার সময় এসেছে।”

জার্মান আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জার্মান রাজনৈতিক দল সিডিইউ বাইজেনাউ এর সভাপতি লুকাস আউগুস্টিন।

প্রধান বক্তা ছিলেন জার্মান আওয়ামী লীগের অন্যতম সিনিয়র নেতা এবং জার্মান- বাংলাদেশ বনিক সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিডিইউ সিনিওরেন ইউনিয়ন এর আঞ্চলিক সভাপতি ব্যার্নার এম এ বয়েথ, জার্মান আওয়ামী লীগের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান খসরু, জার্মান রাজনীতিক বায়ার ক্যার্স্টিন, কেনেস্তেস হাফ এবং এসপিডি এর সিনিয়র নেতা মানফ্রেড মিল্কে।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জার্মানির প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল হক, প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা আবু সেলিম, ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি শেখ আব্দুল মতিন, সহ-সভাপতি আবেদীন জিমারমান, সহ-সভাপতি বদরুল ইসলাম, এসপিডি এর জলিঙ্গেন শাখার সহ-সভাপতি সেলিম মোহাম্মাদ রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, জার্মান আওয়ামী লীগের নেতা বি এম ফরিদ আহমেদ, তালুকদার মায়েদুল ইসলাম, দুলাল আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রবাল আহমেদ এবং জার্মান-বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান লিটন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জার্মানির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সবুজ এবং কবিতা আবৃত্তি করেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সাংবাদিক ও কবি হোসাইন আব্দুল হাই। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জার্মানির সাংস্কৃতিক সম্পাদক কনা ইসলাম এবং শিল্পী শেফালী খালেক এর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পরিবেশিত গানের সাথে সাথে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ছাড়াও জার্মান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জার্মানির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট এর বীর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসার জীবন ও আদর্শ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এর মহাবিয়োগান্তক ঘটনার উপর তথ্যচিত্র এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত সঙ্গীতের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!